মানুষের মাঝে দ্বৈত স্বত্ত্বা কাজ করে, আগে বিশ্বাস করতাম না। কিন্তু আমিই আবার দু'চারজন বুঝানোর চেষ্টা করেছি কয়েক দিন। আমি জানি, তারাও বিশ্বাস করেনি।
কিন্তু আজ ক'দিন ধরে এই দ্বৈত স্বত্ত্বা'ই আমার মধ্যে খুঁজে পাচ্ছি। আর এই দ্বৈত স্বত্ত্বার সামনে তৃতীয় আরেক পক্ষ হয়ে গেছি আমি নিজেই। আমি কোনটাকে মেনে নেব?
বর্তমান সময়ে ফেসবুক ওয়ালে ভাসা কিছু পোস্টের লেখা, ছবি দেখে মনিটা বিস্বাদে ভরে গেছে।
অসুস্থ মা কোলের বাচ্চাকে ছুতে পারছে না। যদিও ছোয়ার সুযোগ হলো, তাও আবার মাকে বিশেষভাবে প্যাকেটিং করা হলো, তারপর।
অসুস্থ বাচ্চা কাচের মধ্যে, মা-বাবা বাইরে। কেউ কাউকে দেখা ছাড়া ছুতে পারছে না। অঝরে শুধু চোখের পানি গড়াচ্ছে। কী নির্মম পরিস্থিতি!
আমাদের দেশের কথায় দেখেননা, দুদক কর্মকর্তা মারা গেলেন, বৌ-বাচ্চারা এমনকি একজন নিকটাত্মীয়ও কাছে থাকতে পারেনি। কী অসহায় অবস্থা!
করোনার উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে। লাশ দাফন করতে সহযোগিতা তো দূরে থাক, মসজিদ থেকে লাসের খাটিয়ে নিতে দেয়নি এলাকাবাসী। অগত্যা কী আর করা, ভাইয়ের লাশ কাধে নিয়ে তিন ভাই দাফন কাজ শেষ করলো। ভাবেন তো কী দুর্দশা? ঠিক এমন ঘটা ঘটেছে ইন্ডিয়াতে বাবার লাশ কাধে করে নিয়ে শ্মশানে পোড়ালো চার কন্যা। গ্রামবাসীরা এগিয়ে আসেনি।
দাক্তাররা কাজ করছে একটানা ১৭-১৮ ঘণ্টা করে। তাদের মুখে মাস্ক ও চশমার দাগ পড়ে ঘা হয়ে গেছে।
কোনো কোনো দেশে লাশ দাফন করা নিয়ে বিপাকে পড়েছে কর্তৃপক্ষ। অনেকে আবার বলছে, আমরা লাশ গণনা করাই ছেড়ে দিয়েছি।
চীনে করোনাভাইরাস সনাক্ত হওয়ার আগেই দরিয়ায় ভেসেছিল, ইউএস নেভির জাহাজ। সমাজ, রাষ্ট্র সবকিছু থেকে হাজার হাজার মাইল দুরে থাকলেও করোনাভাইরাস পৌঁছে গেছে তাদের মাঝে। কীভাবে কী হলো কেউ ভেবেও কুলকিনারা করতে পারছে না।
অসুস্থ মা কোলের বাচ্চাকে ছুতে পারছে না। যদিও ছোয়ার সুযোগ হলো, তাও আবার মাকে বিশেষভাবে প্যাকেটিং করা হলো, তারপর।
অসুস্থ বাচ্চা কাচের মধ্যে, মা-বাবা বাইরে। কেউ কাউকে দেখা ছাড়া ছুতে পারছে না। অঝরে শুধু চোখের পানি গড়াচ্ছে। কী নির্মম পরিস্থিতি!
আমাদের দেশের কথায় দেখেননা, দুদক কর্মকর্তা মারা গেলেন, বৌ-বাচ্চারা এমনকি একজন নিকটাত্মীয়ও কাছে থাকতে পারেনি। কী অসহায় অবস্থা!
করোনার উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে। লাশ দাফন করতে সহযোগিতা তো দূরে থাক, মসজিদ থেকে লাসের খাটিয়ে নিতে দেয়নি এলাকাবাসী। অগত্যা কী আর করা, ভাইয়ের লাশ কাধে নিয়ে তিন ভাই দাফন কাজ শেষ করলো। ভাবেন তো কী দুর্দশা? ঠিক এমন ঘটা ঘটেছে ইন্ডিয়াতে বাবার লাশ কাধে করে নিয়ে শ্মশানে পোড়ালো চার কন্যা। গ্রামবাসীরা এগিয়ে আসেনি।
দাক্তাররা কাজ করছে একটানা ১৭-১৮ ঘণ্টা করে। তাদের মুখে মাস্ক ও চশমার দাগ পড়ে ঘা হয়ে গেছে।
কোনো কোনো দেশে লাশ দাফন করা নিয়ে বিপাকে পড়েছে কর্তৃপক্ষ। অনেকে আবার বলছে, আমরা লাশ গণনা করাই ছেড়ে দিয়েছি।
চীনে করোনাভাইরাস সনাক্ত হওয়ার আগেই দরিয়ায় ভেসেছিল, ইউএস নেভির জাহাজ। সমাজ, রাষ্ট্র সবকিছু থেকে হাজার হাজার মাইল দুরে থাকলেও করোনাভাইরাস পৌঁছে গেছে তাদের মাঝে। কীভাবে কী হলো কেউ ভেবেও কুলকিনারা করতে পারছে না।
এই অবস্থায় মুখ থেকে, মন থেকে অজান্তেই বেরিয়ে আসে একটা কথা- আল্লাহ, আমাদের মাফ করে দাও। এই মহামারী করোনাভাইরাস থেকে আমাদের মুক্তি দাও। তুমিই একমাত্র মক্তিদাতা।
কয়েক বছর আগে মাইকেল জ্যাকসন-এর একটা ভিডিও মিউজিক (Earth Song) দেখেছিলাম। একেতো ইংরেজি জানিনা, তাতে আরও গানের ভাষা তেমন ভালো বুঝিনি। কিন্তু দৃশ্যগুলো সব বুঝিয়ে দিয়েছিল। কেমন করে বিশ্বায়নের এই যুগে নগরায়নের নামে আমরা প্রতিনিয়ত প্রকৃতিকে ধ্বংস করে চলেছি। আবার কীভাবে পৃথিবীটা আবারও স্বতেজ ও সুন্দর হবে।
আজ পৃথিবীর সবচেয়ে বড় শত্রু আমরা, এই মানব জাতি। আমার বিশ্বাস, এই পৃথিবীটা শুধু আমাদের (মানুষের) একার নয়। এ গ্রহে বসবাস করা সকল প্রাণের। সবার অধিকার আছে এই গ্রহটার উপর। কিন্তু আমরা তাদের সেই অধিকার খর্ব করছি। শুনেছি, প্রকৃতি তার বায়োলজিকাল ব্যালেন্স ঠিক করে নেয় নিজ মত করে। যার বাইড় বেশি, শেষ মাত্রায় পৌঁছালে তার বাড়ন্ত কমিয়ে দেয় প্রাকৃতিকভাবে। যেমন, কোটি কোটি বছর আগে বিলুপ্ত হয়েছে ডাইনোসর'রা। সে সময় মানুষের কোনো অস্তিত্বই ছিল না। এখন মানুষ আছে, এক সময়.......
করোনায় পৃথিবী বেশিরভাগ জায়গা জনমানব শুন্য হয়েছে প্রায়। আর এই শুন্য জায়গা পূর্ণ করছে অবহেলিত সেই প্রাণিরা। যাদের আমরা বঞ্চিত করে কোনঠাসা করে রেখেছিলাম।
এখন কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের কাছাকাছি ডলফিনের দেখা মিলছে। পৃথিবীর একমাত্র দীর্ঘ সমুদ্র সৈকত এটা। আমাদের কত গর্ব। এর পানিও যে এত সবুজাভ-নীল তা আমাদের জানা ছিল না। বুড়িগঙ্গা ও তার আসেপাশের নদীগুলোর পানির কালো রং বদলাতে শুরু করেছে। চীনের যেসব শহরে অনেকদিন কেউ ধুলি-কুয়াশা ছাড়া নীল আকাশ দেখেনি। সেখানেও আজ নীল আকাশ, রাতের তারা, ভারি স্বতেজ বাতাস বইছে। ইতালির ভেনিসের সেই নদীগুলোও যেন নতুন জীবন পেয়েছে। সেখানে আজ ছোট-ছোট মাছ খেলে বেড়াচ্ছে।
পৃথিবীর বিভিন্ন শহরের রাস্তায় বন্য হরিণের অবাধ বিচরণ দৃষ্টিগোচর হয়েছে, হয়েছে রা সাংবাদিকদের ক্যামেরাবন্দী।
এখন কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের কাছাকাছি ডলফিনের দেখা মিলছে। পৃথিবীর একমাত্র দীর্ঘ সমুদ্র সৈকত এটা। আমাদের কত গর্ব। এর পানিও যে এত সবুজাভ-নীল তা আমাদের জানা ছিল না। বুড়িগঙ্গা ও তার আসেপাশের নদীগুলোর পানির কালো রং বদলাতে শুরু করেছে। চীনের যেসব শহরে অনেকদিন কেউ ধুলি-কুয়াশা ছাড়া নীল আকাশ দেখেনি। সেখানেও আজ নীল আকাশ, রাতের তারা, ভারি স্বতেজ বাতাস বইছে। ইতালির ভেনিসের সেই নদীগুলোও যেন নতুন জীবন পেয়েছে। সেখানে আজ ছোট-ছোট মাছ খেলে বেড়াচ্ছে।
পৃথিবীর বিভিন্ন শহরের রাস্তায় বন্য হরিণের অবাধ বিচরণ দৃষ্টিগোচর হয়েছে, হয়েছে রা সাংবাদিকদের ক্যামেরাবন্দী।
কী অপার স্বাধীনতা পেয়েছে অবলা প্রাণিগুলো। আমাজন পোড়া কার্বন-ডাই-অক্সাইডের ব্যালেন্সটাও বোধহয় হয়ে যাবে এই করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাব যুগে।
এইসব নিউজগুলো বেশ কদিন ধরে দেখছিলাম আর ভাবছিলাম, সত্যি এই করোনাভাইরাসটা দরকার ছিল, সারা পৃথিবীর সবচেয়ে নিকৃষ্ট প্রাণিগুলোর চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেওয়ার জন্য। যে, তারা পৃথিবীরটা কতটা ক্ষতি করছে।
আমার এক স্বত্ত্বা চাইছে, খুব তাড়াতাড়ি করোনা পরিস্থিতি সামলে উঠুক সারা বিশ্ব। মুক্তি পাক সকল অসহায় মানুষেরা।
আর এক স্বত্ত্বা চাইছে, যা হচ্ছে- ভালো করে হয়ে যাক। পৃথিবী তার আপন রূপে ফিরে যাক। বঞ্চিত প্রাণীগুলো তাদের অধিকার ফিরে পাক। ধ্বংসকারীরা নিপাত যাক।
আমি তৃতীয় পক্ষ, কোন দিকে যাবো।
#Nature #Earth #WildLife #Coronavirus #CIVID2019 #CityLife #Man